“আট থেকে আশি, বঙ্গনারী-র সাজে সবাই রুপসী”…..

সৃষ্টি সরকারঃ দক্ষিণ কলকাতায় ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে বঙ্গনারী বুটিক, আমরা সেই গঠনের উৎস খুঁজতেই কথা বললাম ব‌ঙ্গনারী বুটিকের মালকিন মৌমিতা সাহা-‌এর সাথে।

দিল্লীতে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি দিয়ে মৌমিতা দেবীর কর্মজীবন শুরু হয়। শুধু চাকরিতেই মৌমিতা দেবী থেমে থাকেন নি। দিনের বেলায় অফিস আর রাতে বাড়ি ফিরে তিনি নিজে হাতে জেল ক্যান্ডল বানাতেন, এবং সেগুলো নিয়মিত বিক্রীও তিনি করতেন। এই কাজ করতে করতে তিনি ভাবেন, তিনি যদি একটি গোটা দিনকে কাজে লাগিয়ে নিজে কিছু তৈরী করতে পারেন, তাহলে প্রতিটি মহিলাই তাঁর মতো সময়কে কাজে লাগিয়ে নিজেরা কিছু একটা করে নিজেদেরকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। সমস্ত মহিলাদের উদ্দেশ্যে তিনি তৈরী করলেন -‘বঙ্গনারী’। এখানে সমস্ত মহিলারা তাঁদের নিজেদের হাতে তৈরী করা জিনিস স্বসন্মানে বেঁচতে পারেন।

গত ১ বছর ধরে একটু একটু করে গড়ে ওঠে বঙ্গনারী বুটিকটি। এই বুটিকটি মুলত মহিলা কেন্দ্রীক বুটিক বলেই জানিয়েছেন আমাদের এই বুটিকের কর্তী মৌমিতা সাহা। তিনি বলেন এই বুটিকটির মিসন এবং ভিসন দুইই হলো সারা বাংলার শিল্পকে তুলে ধরা। এছাড়াও তিনি বঙ্গনারী বুটিক-টিকে নারীদের পরিচয় গঠন করার মাধ্যম হিসেবে তৈরী করেন। সম্ভ্রান্ত ও সচ্ছল ডাক্তার পরিবারের মেয়ে হ‌ওয়া সত্ত্বেও সারা জীবন নিজের মা-কে গৃহবধূ হয়ে অপরের উপর নির্ভর করে জীবন কাটাতে দেখে তাঁর উপলব্ধি হয় যে প্রত্যেকটি নারীর আর্থিক দিক থেকে সমস্যা না থাকলেও তবুও স্বরোজগেরে হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো উচিত।

মৌমিতা দেবী জানান তার এই দক্ষিণ কোলকাতার বুটিকে শুধুমাত্র মহিলাদের হাতে তৈরিই নানা ধরনের দ্রব্য পাওয়া যায়। যেমন মহিলা তাঁতী দের হাতে তৈরী বিভিন্ন ধরনের শাড়ি থেকে শুরু করে, হাতে তৈরী গয়না, ব্যাগ, পারফিউম, হাতে তৈরি বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী সব‌ই পাওয়া যায়। এছাড়াও ক্রেতারা তাঁদের নিজেদের পছন্দের ডিজাইনি়ং সামগ্রীও খুব অল্প সময়ের এবং নিজেদের বাজেটের মধ্যেই পেয়ে যান। মৌমিতা দেবী জানান এইসব ছাড়াও বঙ্গনারী ওয়েডিং প্রজেক্টেও সমানভাবে অংশগ্রহণ করে। যেমন, কনের হাতে মেহন্দী পড়ানো থেকে শুরু করে কনের মেক‌আপ, কনের নিজের পছন্দের বেনারসী তৈরী ইত্যাদি সব‌ই বঙ্গনারীর সদস্যরাই করে থাকেন।

মৌমিতা দেবী জানান, বঙ্গনারী এইবছর তার বেস্ট ট্রেডিশনাল শাড়ি সেলিং-এর জন্য জানুয়ারি মাসের 20 তারিখে বেস্ট অ্যাচির্ভাস আওয়ার্ডে সন্মানিত হয়। ব্যাঙ্গালরে এক বেসরকারী সংস্থার পক্ষ থেকে বলিউড অভিনেত্রী স্বয়ং দিয়া মির্জা বঙ্গনারীকে পুরস্কৃত করেন। মৌমিতা দেবী আশা রাখেন ভবিষ্যতে এধরনের আরো আওয়ার্ডে বঙ্গনারী সন্মানিত হবে।

মৌমিতা দেবী জানান বঙ্গনারীর সদস্য সংখ্যা ক্রমশ উর্দ্ধমুখী। এখানে সবধরনের বয়সের মহিলারা কাজ করেন। তাঁর একার পক্ষে বঙ্গনারী কোনোদিন‌ই তৈরী হ‌ওয়া সম্ভব ছিলনা। তিনি জানান বাঙলার নারীরা একত্র হয়েই তৈরী হয়েছে বঙ্গনারী। তিনি নিজেও খুব খুশি বাঙলার মহিলাদের স্বনির্ভর করতে পেরে তার এই বঙ্গনারীর মাধ্যমে। তিনি মনে করেন বাঙলার প্রতিটি মহিলার স্বনির্ভর হ‌ওয়াটা খুব প্রয়োজনীয়।

বঙ্গনারীর এক সদস্যা জয়ন্তী দাস বলেন, বঙ্গনারী তাঁর পাশে না থাকলে তার শৈল্পিক সত্তাটা কোনোদিন‌ই প্রকাশ পেতনা। তিনি বঙ্গনারীতে তাঁর নিজের হাতে নানা ধরনের গয়না বানিয়ে বিক্রী করেন। গয়না বানানোর পাশাপাশি তিনি বঙ্গনারীর আরো মহিলা সদস্যাদের গয়না বানানো শেখান। তিনি মনে করেন তাঁর মতো বাকি মহিলারাও যেন কাজ শিখে নিজে হাতে গয়না বানিয়ে রোজগার করে স্বনির্ভর হতে পারে।

এছাড়াও বঙ্গনারীর আরেক সদস্যা পৌলবি ব্যানার্জিও বঙ্গনারী গড়ে ওঠার মূর্হূত গুলো আমাদের সাথে ভাগ করে নেন। তিনিও মুলত এখানে গয়না বাননোর সাথে জড়িত। এছাড়াও বঙ্গনারীর বিজনেস ডেভলপমেন্টেও তিনি সাহায্য করেন। তিনি‌ও বঙ্গনারীর মাধ্যমে স্বনির্ভর হতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করেন।

মৌমিতা দেবী ও বঙ্গনারী-র সমস্ত সদস্যরা বঙ্গনারীকে নিয়ে যথেষ্ঠ আশাবাদী। তারা জানান ক্রেতারা খুব সহজেই বঙ্গনারীর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। ক্রেতারা দেশে ও বিদেশে ফেসবুক, ওয়াটসাপ, ইন্স্টাগ্রাম ইত্যাদি সোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে তাদের কেনাকাটা করতে পারেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here